"বেঁচে থাকার আনন্দ উপলব্ধি করাল কোভিড!", করোনা মুক্ত হওয়ার পর অভিজ্ঞতা শেয়ার করলেন পল্লবী

কোভিড অতিমারি আমাদের জীবনকে যেন স্তব্ধ করে দিয়েছে। কোভিড শুনলেই আমরা ভয় পাই। ভাবি, সত্য়িই কি বাঁচার আশা আর নেই! তা নয়। ভয় না পেয়ে কয়েকদিন নিয়ম মেনে থাকার পরেই আমরা আবার করোনা মুক্ত হয়ে যাই। তবে হ্য়াঁ, শরীরে বেশ কিছু সমস্যা থেকে যায় ঠিকই। তাই কোভিড আক্রান্ত হলে মনের জোর হারালে চলবে না। মনের জোরেই কোভিড জয়। কী বললেন পল্লবী?



হাই! আমি পল্লবী। তোমাদেরই একজন। আজ আমি আমার কোভিড যুদ্ধ জয় করার গল্প  বলব। 

২৭শে এপ্রিল আমার কোভিড রিপোর্ট পজিটিভ আসে। প্রথমে তো খুব ভয়ে ছিলাম,মনে হচ্ছিল এই সব শেষ।  কারণ, মিডিয়ার প্রচার দেখার পর কোনও পজিটিভ ভাইবস পাচ্ছিলাম না। মা, বাবারও শরীর খারাপ ছিল। ওদের জ্বর আর কাশি হয়েছিল। আর কোনো লক্ষণ অবশ্য ছিল না। তাই ওঁদের যে কোভিড হয়েছে, সেই কথা আমি বিশ্বাস করতে চাইনি। অবশ্য ডাক্তারও তেমন কিছু বলেননি। কিন্তু আমার পজিটিভ রিপোর্টের পর ওঁদেরও রিপোর্ট এল। ওঁরাও পজিটিভ। তবে হ্যাঁ যেহেতু ভ্যাক্সিনের প্রথম ডোজ  ওনাদের নেওয়া ছিল তাই অতটা ওনারা আক্রান্ত হননি। আমার হয়তো ভ্যাক্সিন নেওয়া ছিল না বলেই আমার উপর প্রভাব বেশি পড়েছে।

মাতৃত্বের কাছে হার মানল করোনা

আমার মা'তো আমায় হাসপাতালে ছাড়বেন না। আবার আলাদাও রাখবেন না। ওনার বক্তব্য, "আমি যেভাবে তোকে আগলাব।  কেউ আগলাবে না। তুই ঠিক হয়ে যাবি আমার কাছে থাকলে।" সেদিন দেখলাম যে করোনাও মাতৃত্বর কাছে হার মানে। অবশ্য হাসপাতালে তখন বেডও পাওয়া লটারি কাটার মতো হয়ে গেছিল।
 

একদিন অক্সিজেন স্যাচুরেশন ৮৬!

একদিন শরীরটা খুব বেশি খারাপ করল। মনে হল, হয়তো বাঁচব না। কারণ আমি আগেই ভয় পেয়েছিলাম। অক্সিজেন স্যাচুরেশন আমার ৮৬ তখন। আমি শ্বাস নিতে পারছি না, গা ব্যথায় আমি শেষ। কথা বলা? কাশতে কাশতে খুব কষ্ট হচ্ছে। বাবাকে আমি খুব কম কাঁদতে দেখেছি। কিন্তু তখন বাবাও কান্না শুরু করে দিয়েছে। আর মাকে কী বলব। পাড়ার সব লোক বাড়ির বাইরে দাঁড়িয়ে রয়েছে। হ্যাঁ, ঠিক শুনলেন সবাই আমার বাড়ির বাইরে দাঁড়িয়ে আর আমার বাড়িতে সবাই কোভিড পজিটিভ। আমার কাকু, কাকিমা,  বড় মা, ভাই ও পাড়ার সবাই অক্সিজেন সিলিন্ডারের  জন্য ফোন করছে এখানে সেখানে। আমি সব দেখছি আর ভগবানকে বলছি আমাকে এদের জন্য বাঁচিয়ে দাও। এরা আমাকে এত ভালোবাসে আমি যে জানতামও না। আমার টিম লিড পলাশদা আর অফিসের সুদীপদা, এরা না থাকলে অবশ্য ভগবান আমাকে বাঁচাত না। সেদিন যখন সবাই ছুটছে অক্সিজেন আর বেডের জন্য কিন্তু সুরাহা করতে পারছে না। আমি শুধু বাবাকে বলেছিলাম, "একটু দাদাকে বলো না কিছু করতে, আমি আর পারছি না।" ওনারা তারপর একজন ডাক্তারের খোঁজ দেন। তাঁর পরামর্শ অনুযায়ী আমার মা ও বাবার চিকিৎসা হয়। হ্যাঁ আমি অক্সিজেন পাইনি। না বেড পেয়েছি! টেলি কনসাল্টিং-এ আর ঔষধে আমি ১৭ মে কোভিড নেগেটিভ হই। কিন্তু আজও আমি বেশি কথা বললে হাঁপাই আর হাঁটতে পারি না। কিন্তু দেখো আমি নাচ করছি ,গান করছি। কারণ আমি নিজেকে বলি, "যদি নিজের মনোবলকে সেলিব্রেট না করি, তাহলে নিজেই নিজেকে ক্ষমা করতে পারব না।" 

আসলে কী জানো তো এই বেঁচে থাকার আনন্দটা মৃত্যু শয্যায় গেলেই জানা যায়।  তাই আমি কোভিডের কাছে কৃতজ্ঞ। কারণ আমাকে বাঁচার আশা দেখিয়েছে কোভিড।

লিখলেন - পল্লবী

পল্লবী প্রসঙ্গে - পল্লবী চাকুরিজীবী। সিঙ্গল চাইল্ড। তাই বাবা, মা-কে দেখার দায়িত্ব একার। সব সামলিয়েও জীবনে বাঁচার আনন্দ নিচ্ছেন এই করোনা জয়ী।

কপিরাইট - মনবিলাসী

মেসেজ করার জন্য গুগল ফর্মের লিংক 👇
https://bit.ly/3gSSnc3


ইউটিউব চ্যানেলের লিংক 👇
https://bit.ly/3d0WKke

Comments

Popular posts from this blog

সম্পর্কে মাত্রাহীন অধিকার বোধ যখন আপনার শ্বাসরোধ করে, কীভাবে সামাল দেবেন পরিস্থিতি?

আজ আপনার মন খারাপ কেন?

লকডাউনে স্মার্টফোনের প্রতি আপনার শিশুর আকর্ষণ বেড়েছে? সমাধান বললাম আমরা