সম্পর্কে মাত্রাহীন অধিকার বোধ যখন আপনার শ্বাসরোধ করে, কীভাবে সামাল দেবেন পরিস্থিতি?

 টক্সিক সম্পর্ক। এই বিষয়টি কম বেশি আমাদের সবার কাছেই যথেষ্ট পরিচিত। অনেকেই এই সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন। সত্যি বলতে টক্সিক সম্পর্কে ভুক্তভুগী ছিলাম আমিও। 

 আমরা অনেকেই টক্সিক সম্পর্কে ছিলাম। কেউ মনের জোরে বেরিয়ে এসেছি। কেউ সম্পর্ক থেকে বেরোতে পারিনি। এখনও সেই সম্পর্কেই আছেন। আজ আমি আমার অভিজ্ঞতার কথা লিখছি, কারণ আমি যা ভুল করেছি আমি চাই না আপনারা কেউ সেই ভুল করুন। কারণ এই ভুলের পরিণাম কতটা খারাপ হতে পারে আর কতটা মানসিক যন্ত্রণা দিতে পারে তা আজ আমি জানি। আমি চাই না আপনারও সেই মানসিক যন্ত্রণা ভোগ করুন। 

মাত্রাহীন অধিকারবোধ ক্ষতি করে

আমরা সকলেই ভালোবাসা চাই। তাই ভালোবাসার জন্য সবকিছু করতেও পিছুপা হই না হয়তো। প্রত্যেক সম্পর্কেই একজন সঙ্গী অপরজনকে নিয়ে পসেসিভ হয়। সম্পর্কে মিষ্টি পসেসিভনেস (possessiveness) বা জেলাসি বেশ উপভোগও করা যায়। কিন্তু এই বিষয়টি একটি মাত্রা ছাড়িয়ে গেলেই সেখানেই শুরু হয় সমস্যা। একইভাবে সমস্যা হয়, যখন আপনার সঙ্গী আপনার উপর তাঁর মতামত চাপিয়ে দিতে শুরু করে। আপনাকে জোর করতে শুরু করে। 

যেমন, আপনার একটা জামা পছন্দ হয়েছে। কিন্তু আপনার ভালোবাসার মানুষটি প্রথমে বলল, "এটা প্লিজ পড়ো না। আমার পছন্দ না।" আপনি তার কথা রাখতে আপনার ইচ্ছাকে গুরুত্ব দিলেন না। কারণ, আপনি তাকে ভালোবাসেন,তার ভালো লাগা অনুযায়ী চলতে চান। তাই নিজের ভালো লাগাকে হত্যা করলেন। তবে এখানে সে যদি বলত, জামাটা আমার ভালো লাগছিল না কিন্তু তোমাকে ভালো মানিয়েছে। নিতে পারো। এটা কিন্তু আলাদা ব্যাপার হত। তাই না?

তারপর সে একদিন বলল, "তুমি ছেলেদের সাথে কথা বলো না, আমার খারাপ লাগে।" আপনি তার ভালো লাগাকে প্রশ্রয় দিতে তাও করলেন। কিন্তু ভেবেছেন এর শেষ পরিণতি ঠিক কোথায় যেতে পারে? 



সেদিন প্রতিবাদ করেছিলাম বলেই আজও বেঁচে আছি

আমি আমার কথাই বলছি।  একদিন আমার জীবনে পরিস্থিতি এমন হয় যে, আমি নিজের কোনো বন্ধুর সাথে কথা বললে ঝামেলা হত। তবে সে কিন্তু হাজার মেয়ের সাথে কথা বলত। আর তা নিয়ে ভালো ভাবে বোঝাতে গেলেও ঝামেলা শুরু হয়ে যেত। এরপর আমার জামাকাপড় নিয়ে মতামত দিতে থাকে। আমি কী পড়ব তাও সে ঠিক করবে। মাঝে নিজেকে রোবট মনে হয়েছিল। একদিন খাঁচার তোতাপাখির মতো শেষ চিৎকার করে উঠেছিলাম। হয়তো উঠেছিলাম বলে আজ বেঁচে আছি। না তো আজ হয়তো নিজের অস্তিত্ব থাকত না। 

হ্যাঁ আমি সম্পর্কটাকে আঁকড়ে বাঁচতে চেয়েছিলাম তাই হয়তো সব মেনে নিতাম। কিন্তু ভুলে গেছিলাম সম্পর্ক আমাদের দুজনকে নিয়েই। তাই নিজেকে হারিয়ে কখনও সম্পর্ক টেকে না। আমি যদি প্রথমেই নিজেকে গুরুত্ব দিতাম কিংবা প্রথমেই তাকে আটকাতাম তাহলে হয়তো এতকিছু আমাকে সহ্য করতে হত না।


কীভাবে নিজেকে সামলাবেন

এত কিছু মেনে নেওয়ার পর যখন সম্পর্ক ভাঙল, আমি খুব মানসিক অবসাদে ভুগেছি। নিজেকে অনেক আঘাতও দিয়েছি। কিন্তু শিক্ষা অনেক নিয়েছি। যেমন - সেই কথা অবশ্যই মানা উচিত যেটা আপনার জন্য ভালো। আপনাকে সঠিক পথে নিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু অপর ব্যক্তির ভালো লাগার জন্য নিজেকে পাল্টানো কখনও উচিত না।

 যখন দম বন্ধ হয়ে চেঁচাবেন, তখন সে আপনার কষ্ট বুঝবে তো নাই বরং তখনও সে তার অধিকার ফলাবে। তাই নিজেকে আগে ভালোবাসুন আর যে আপনাকে আপনার মতো ভালোবাসবে তাকে ভালোবাসুন। ভালোবাসা অনেক দামি তাই নিজেকে দিয়ে শুরু করুন দেখবেন কেউ আপনাকে ভাঙতে পারবে না।

সুস্থ থাকুন ভালো থাকুন। আমরা আপনার পাশে আছি।💓💓

-----------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------

লিখলেন - পল্লবী

সম্পাদনা - ইন্দ্রাণী

পল্লবী প্রসঙ্গে - পল্লবী চাকুরিজীবী। সিঙ্গল চাইল্ড। তাই বাবা, মা-কে দেখার দায়িত্ব একার। সব সামলিয়েও জীবনে বাঁচার আনন্দ নিচ্ছেন এই করোনা জয়ী।

ইন্দ্রাণী প্রসঙ্গে - একটি লাইফস্টাইল মিডিয়া হাউজে কর্মরত। পেশায় লেখক ও সম্পাদক। সাম্যতায় বিশ্বাসী ইন্দ্রাণী রাজনীতি ও সিনেমা নিয়ে চর্চা করতে ভালবাসেন।


©️ মনবিলাসী টিম

মেসেজ করার জন্য গুগল ফর্মের লিংক 👇

https://bit.ly/3gSSnc3


ইউটিউব চ্যানেলের লিংক 👇

https://bit.ly/3d0WKke

Comments

Popular posts from this blog

আজ আপনার মন খারাপ কেন?

লকডাউনে স্মার্টফোনের প্রতি আপনার শিশুর আকর্ষণ বেড়েছে? সমাধান বললাম আমরা